মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পা-বিহীন উভচর সরীসৃপ চিকিলা ফুলেরির মৃতদেহ পাওয়া গেছে। প্রাণী গবেষকেরা বলছেন, চিকিলা ফুলেরি আফ্রিকার আদি বাসিন্দা। এটা পাওয়ায় প্রমাণ মেলে প্রাগৈতিহাসিক যুগে এ ভূখণ্ড হয়তো আফ্রিকা মহাদেশের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
গত বৃহস্পতিবার বন্য প্রাণী গবেষক তানিয়া খান লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের একটি পাহাড়ি ছড়ার (খাল) পাশে এই মৃত চিকিলা ফুলেরিটিকে খুঁজে পান। এটা দেখতে অনেকটা ছোট বাইন মাছের মতো। চোখ আছে, মুখ আধ ইঞ্চির মতো। ছোট ছোট ধারালো দাঁত। এর লেজ দুমুখো সাপ বা কেঁচোর মতো।
এর আগে ২০১২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর একই পাহাড়ি ছড়া থেকে আরেকটি মৃত চিকিলার সন্ধান পান তানিয়া ও তাঁর স্বামী বন কর্মকর্তা মুনির আহ্মেদ খান। পরে ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর প্রাণীবিজ্ঞানী রেজা খানের নেতৃত্বে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে একটি গবেষক দল ছড়ার মাটি খুঁড়ে দুটি জীবিত চিকিলা ফুলেরি ধরেন।
প্রাণীবিজ্ঞানী রেজা ও তানিয়া খান বলেন, এ উভচর প্রাণীটি আফ্রিকার আদি বাসিন্দা। বিজ্ঞানীদের গবেষণামতে, এই প্রজাতির উদ্ভব ডাইনোসরের যুগে। এর নিকটতম প্রজাতিরা এখনো আফ্রিকায় বাস করে। চিকিলা ফুলেরি পাওয়ায় প্রমাণ মেলে, ১৪ কোটি বছর আগে এ দেশের ভূখণ্ড হয়তো পৃথিবীর অখণ্ড স্থলভূমি গন্ডোয়ানার অংশ ছিল।
২০১২ সালে ভারতীয় বিজ্ঞানীরা ব্রিটিশ ও বেলজিয়ামের কয়েকজন বিজ্ঞানীর সহযোগিতায় ডিএনএ বিশ্লেষণ করেন। তাঁরা এর নাম দেন চিকিলা (Chikila)। বিজ্ঞানীদের বরাত দিয়ে ভারতীয় দৈনিক দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চিকিলার দৃষ্টিসীমা খুবই সীমিত। গর্ত খননের জন্য এরা মাথার খুলিকে ব্যবহার করে। ডিম পাড়ার পর দুই-তিন মাস মা চিকিলা ডিমকে পেঁচিয়ে বা ঢেকে রাখে। দুই-তিন মাসের মধ্যে ডিম ফুটে বাচ্চা বেরোয়। সে বাচ্চা দেখতে পূর্ণবয়স্ক চিকিলার মতোই। মাটির নিচেই জীবনযাপন করে এরা। এই প্রাণীর গোত্রীয় নাম চিকিলিডি।
তানিয়া খান গতকাল শনিবার বলেন, ‘চার বছর আগে সেপ্টেম্বরে মৃত চিকিলা ফুলেরি পেয়েছিলাম। এবার পেলাম আগস্টে। এই সময়ে এটা মৃত পাওয়ার কোনো কারণ আছ কি না, তা নিয়ে গবেষণা হওয়া দরকার।’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন